শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩

উত্তরবঙ্গের হাতি আর মানুষ – সংঘাত নাকি সহাবস্থান / স্বাতী রায় / ৩য় বর্ষ ৩য় সংখ্যা

 

উত্তরবঙ্গের হাতি আর  মানুষ – সংঘাত নাকি সহাবস্থান

স্বাতী রায়

দৃশ্যটা প্রথম দেখেছিলাম উত্তরবঙ্গ থেকে অনেক দূরে, উত্তরাখণ্ডের রাজাজী ন্যাশনাল পার্কে। বিকেলে জঙ্গল-পরিক্রমায় বেরিয়েছি। সফর শেষের মুখে আমাদের জিপ-চালকের কাছে একটা ফোন এল। তিনি সেই ফোন পেয়েই পড়িমড়ি করে গাড়ী নিয়ে একদিকে ছুটলেন। সেইখানে এক সিমেন্ট-বাঁধানো নালার দুধার দিয়ে পিচ-রাস্তা চলে গেছে সোজা, বহুদূরে। সেই রাস্তা যদিও ন্যাশনাল হাইওয়ের থেকে অল্প দুরে, তবু মোটর সাইকেল, গাড়ী ও মানুষের চলাচলের বিরাম নেই। তবু জল বলে কথা, তাই সব কিছুই উপেক্ষা করে তৃষ্ণা মেটাতে নালার পাশে হাজির জঙ্গলের পশুপাখিরা। হঠাৎ এক জায়গায় গাড়ি থেমে গেল। অল্প দুরে সামনে দেখি হালকা গাছের সারির পিছনে একরাশ পুঞ্জীভূত মেঘ থমকে দাঁড়ানো। হাতি। আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে গেলে কী হয়েছে, অন্য গাড়ী সেই অতিকায় প্রাণীকে একটুও সম্ভ্রম না দেখিয়ে তার সামনে দিয়েই হুশ করে চলে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ পরে রাস্তা ফাঁকা হতে, সেই হস্তিকন্যা রাস্তা পেরিয়ে এসে একটা পাড়-ভাঙ্গা জায়গা দিয়ে জলে নামলেন। জানি না আমার কল্পনা কিনা, তবু মনে হচ্ছিল, যেন সে অতি ভয়ে ভয়ে, সন্তর্পণে প্রতিটা পা ফেলছে। জলে নেমেও স্বস্তি নেই। একবার করে জলে মাথা ডোবাচ্ছে, আবার ধড়মড়িয়ে মাথা তুলে চারদিক দেখছে। অনেকক্ষণ পরে যখন আমরা সেই জায়গা ছেড়ে চলে আসছি, তখন ভারি মন খারাপ হয়েছিল। একটা প্রাণী মানুষের কারণে তারই নিজের এলাকাতেও শান্তিতে তৃষ্ণার জলটুকু খেতে পারে না, এ কেমন উন্নয়নের খেলা আমাদের?

এখানেই অভিজ্ঞতা শেষ হতে পারত। কিন্তু হল আর কই! ফেরার পথে হঠাৎ দেখি আমাদের চালক-মহাশয় আবার গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে সেই খাল পেরিয়ে একটা গ্রামে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে সামনের জঙ্গলের দিকে ছুটে গেলেন। ওঁকে অনুসরণ করে গিয়ে দেখি এক দাঁত-ভাঙ্গা গজরাজ উদ্ভ্রান্ত হয়ে গাছের আড়াল দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে আর গ্রামের বাচ্চারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারছে। চালক গিয়ে সেই বাচ্চাদের খুব বকে হাতিটিকে নিশ্চিন্তে যাওয়ার অবকাশ করে দিলেন। কিন্তু উপস্থিত সবাই এও বুঝলাম যে এই সুবিধা নিতান্তই সাময়িক। সব সময় তো আর বাচ্চাদের ঠেকানোর জন্য আমাদের চালকের মতন সহৃদয় লোক ধারেপাশে থাকবে না।

চোখের সামনে বনের প্রাণীর এ হেন কাতর অবস্থা দেখার অভিজ্ঞতা বলা যায় আমাকে একটা ধাক্কা দিল। নতুন করে দেখতে, ভাবতে, পড়তে শেখাল। এর আগেও খবরের কাগজে বহুবার পড়েছি দলমা পাহাড়ের থেকে হাতির দল নেমে এসে সব তছনছ করে দিয়েছে। তবে ওই পড়াটুকুই সার, ভাবনায় তেমন ঘা দেয়নি। এই প্রথম চোখে পড়ল সমস্যার খানিকটা স্বরূপ। নিজের রাজ্যের খবর নিতে গিয়ে তো অবাক! আমাদের উত্তরবঙ্গে এদিকে ভারতের মাত্র ২ শতাংশেরও কম হাতির বাস, অথচ হাতি-মানুষ সংঘর্ষের বিবরণে এই এলাকা দেশের মধ্যে একদম প্রথম দিকে। এমন কেন সে তো একটু খতিয়ে দেখতেই হয় তাহলে!

উত্তরে হাতির আবাস বলতে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি আর আলিপুরদুয়ার। সরকারি তথ্য মতে[1],  উত্তরবঙ্গে হাতির সংখ্যা ২০০২ সালের ২৯২ থেকে ২০১৪ সালে ৫৯০ তে দাঁড়ালেও ২০১৭ তে আবার কমে ৪৮৮ হয়ে যায়। ২০১৮-১৯ সালে বক্সা টাইগার রিজার্ভে একটি হাতি চোরাশিকারীদের হাতে মারা যায়। উত্তরবঙ্গের আরও চারটে হাতি এই সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনায় মারা যায়। এদের মধ্যে ট্রেন অ্যাকসিডেন্টেই মারা গেছে তিনটি হাতি আর অবশিষ্টটি দুর্ঘটনাবশতঃ তড়িৎপৃষ্ট হয়ে। উল্টোদিকে, হাতির হাতে মানুষের ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। ২০১৮-১৯ সালে উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গ মিলিয়ে হাতির হাতে মারা পড়েছে ৮০ জন আর জখম হয়েছে আরও ৮১ জন। সব রকমের বন্যপ্রাণীর মধ্যে হাতির করা ক্ষতির পরিমাণই সব থেকে বেশি। মানুষ মারা বা জখম করা ছাড়াও হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫৩১টি মনুষ্য আবাস, আর ৩৭৭১ হেক্টর জমির ফসল। সরকারের মোট সাড়ে আট কোটি টাকা গেছে রাজ্যের মানুষকে হাতির সঙ্গে সংঘর্ষজনিত ক্ষতিপূরণ দিতে। এ শুধু এক বছরের হিসেব। ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ সালের সরকারি হিসেব অনুসারে মানুষের মৃত্যুর নিরিখে পশ্চিমবঙ্গে দেশের মধ্যে দ্বিতীয়। আবার মানুষের হাতে হাতির ক্ষতিও এই রাজ্যেই সবথেকে বেশি। সত্যি কথা বলতে ক্রুদ্ধ জনতার হাতে কত হাতি কতভাবে আহত হয়, তার জন্য তো আর হাতিরা এসে বন দপ্তরের কাছে ক্ষতিপূরণ চায় না, তাই তার কোন হিসাবও নেই। অথচ প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখার কাজে হাতির কিন্তু জুড়ি নেই। তাই পরিবেশ রক্ষার দিক থেকে হাতির ক্ষতি মোটেই কাম্য নয়। আর বছর বছর সরকারের এই ক্ষতির জের বয়ে যাওয়াও মোটেই কম কথা নয়।

কিন্তু কেন? হাতিরা তো আদতে বন্যপ্রাণী – কেনই বা তারা জঙ্গল ছেড়ে মানুষের এলাকায় পা বাড়ায়? আর মানুষও তো জানে, বিশেষত ভারতীয় হাতি হল এনডেঞ্জার্ড প্রাণী – তাও তারা কেন হাতির ক্ষতি করে? বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?

আসলে হাতি বিশাল বড় প্রাণী, এক দল হাতি যেখানে থাকে, সেখানে তাদের অনেক জল, অনেক খাবার লাগে। আর এক জায়গার খাবার ফুরিয়ে গেলে হাতিরা সদলবলে অন্য জায়গার দিকে খাদ্যের সন্ধানে রওনা দেয়। সমস্যা এই যে, ‘রাইট অফ প্যাসেজঃ এলিফ্যান্ট করিডরস অফ ইন্ডিয়া’[2]  রিপোর্টের মতে, উত্তরবঙ্গের হাতিদের ওঠা-বসা-চলা-ফেরা সব মিলিয়ে তাদের জন্য যত জায়গা আগে বরাদ্দ ছিল, এখন তার মাত্র ২২% সংরক্ষিত জঙ্গলের মধ্যে, বাদবাকি সবই চা-বাগান বা চাষের জমি বা জনবসতির মধ্যে পড়েছে। বহুবছর আগে যে জায়গা ছিল গভীর অরণ্যে ঢাকা, গজরাজ সহ অন্য প্রাণীদের চারণভূমি, আজ সেখানে শুধুই টুকরো টুকরো জঙ্গল সম্বল। এমনই মানব সভ্যতার অগ্রগতির চাপ! গোদের উপর বিষফোঁড়া, সেই জঙ্গলের মধ্যে দিয়েও গেছে উন্নয়নের দূত, রাজপথ, রেলপথ। আর সেই সঙ্গে আছে চা-বাগান বা জমি ঘিরে দেওয়া ইলেক্ট্রিক বেড়া। সব মিলিয়ে তিস্তা আর তোর্সা নদীর মাঝের অঞ্চলের জঙ্গলের প্রায় ২৩৫টি হাতির ভবিষ্যৎ সব থেকে বেশি সংকটে। ২০০৫ সালের তথ্যের সঙ্গে ২০১৭ সালের তথ্য তুলনা করে দেখা গেছে যে লোকের জঙ্গল কেটে বসতি বানানো, চাষের আবাদ পত্তন বা নতুন নতুন চা-বাগান তৈরি শুধু যে জঙ্গলকে গ্রাস করছে তাই নয়, হাতির যাতায়াতের পথকেও সঙ্কুচিত করছে ক্রমাগত। আগে উল্লিখিত রিপোর্টে উত্তরবঙ্গে মোট চৌদ্দটি হাতির যাতায়াতের পথকে চিহ্নিত করা আছে। এই চৌদ্দটি পথের মধ্যে অন্তত তিনটে অর্থাৎ বক্সা-তিতি, নিমাতি-চিলাপাতা, বক্সা-রিপু পথের আশু সংরক্ষণের প্রয়োজন। এছাড়াও রিপোর্টে বিভিন্ন রকমের ভবিষ্যৎ পন্থার নির্দেশ দেওয়া আছে, যেমন পথকে বসতি বা দোকানপাট মুক্ত করা, পথের স্বাভাবিক গাছপালার সংখ্যা বাড়ানো,  হাতির চলাচলের পথের উপর দিয়ে যাওয়া রাজপথের যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা, নতুন বাণিজ্যিক নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে আনা ইত্যাদি। তবু আদৌ গত পাঁচ বছরে তার কতটা কানে তোলা হল সে নিয়ে সন্দেহ থাকেই। অবশ্য অতি সম্প্রতি শোনা গেছে যে জাপানি সংস্থা JICA র সহায়তায় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে হাতি চলাচলের করিডর মেরামত করা হবে[3] 

একেই ছোট ছোট পাতলা হয়ে আসা জঙ্গল হাতির দলের পেট ভরা খাবার জোগাতে পারে না। তার উপর একেবারে জঙ্গলের লাগোয়াই যদি চাষের জমি হয়, আর সেখানে যদি ধান, ভুট্টার মতন লোভনীয় খাবার মেলে বা গৃহস্থের আঙিনায় আম- কাঁঠাল-কুমড়ো ফলে, হাতিই বা কি করে লোভ সামলায়! মোটামুটি জঙ্গলের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে হাতির হানাদারির মাত্রা সর্বাধিক। বিশেষত জলের উৎসের কাছাকছি জমিতে হাতির হামলা হয় বেশি। তবে শস্যের খোঁজে হাতির ক্ষেতে হানা দেওয়ার কিন্তু নির্দিষ্ট প্যাটার্ণ আছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে ফসলের ক্ষেতে হানা দেওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারী মাসে, মূলতঃ ধান তোলার মরশুমে, বিকেলের দিকে বা রাতের বেলায়। এমনকি সব ধরণের ফসলের ক্ষেতেও তারা হানা দেয় না। ডুয়ার্সের বিভিন্ন ফুলের চাষের ক্ষেতে তারা পা না ছুঁইয়েই চলে যায়। এ কথা অভিজ্ঞজনের মুখে শোনা কথা। স্টাডি থেকে আরও দেখা গেছে যে হাঁড়িয়ার তীব্র গন্ধেও হাতির আক্রমণ বাড়ে। 

উত্তরবঙ্গের এইসব এলাকায় জনঘনত্বের গ্রাফ এমনিতেই উর্ধমুখী। বিভিন্ন সার্ভে, সেনসাসের তথ্য থেকে তো সেটা বোঝা যায়ই, এমনকি চোখে দেখেও মালুম হয়। গত শতাব্দীর সত্তর-আশির দশকের অভিজ্ঞতায় যেসব জায়গা প্রায় জনমানবহীন ছিল, এখন সেসব জায়গা দোকানপাট, বাড়ি-ঘর, মানুষে ভরা। সেই সঙ্গে বাড়ছে চাষের জমির পরিমাণ। কয়েক বছর আগেও যেসব জমি অনাবাদী পড়ে থাকত, করোনার সময়ে অনেকেই গ্রামে ফিরে আসাতে সেই সব জমিতেও চাষ শুরু হয়েছে। আর সেই সঙ্গে ক্রমশঃ বাড়ছে বাণিজ্যিক চা বাগান, প্ল্যান্টেশন বা আবাদ। জমির ব্যবহার দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিবেশের বদলও ঘটছে। যেসব জায়গা আগে প্রবল বর্ষায় বছরভর গাঢ় সবুজ হয়ে থাকত, বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যৎবাণী করছেন আগামী দিনে ক্রমশঃ হয়ত সেখানে শুখা মরশুম আরও লম্বা হবে, পানীয় জলে টান পড়বে। যত জলে টান পড়বে, তাপমাত্রা বাড়বে, তত হয়ত হাতিরাও জলের সন্ধানে বাসস্থান বদলাবে। সেই কারণে হয়ত ভবিষ্যতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে জঙ্গলের লাগোয়া জনবসতিগুলো।       

তবে শুধু হাতির দিক দেখলেও চলবে না। বারে বারে যদি হাতির আক্রমণে শস্য, ফলপাকুড়, বাড়িঘর তছনছ হয় তাহলে স্থানীয় মানুষেরই বা কতদিন ধৈর্য থাকে! যেসব জায়গায় হাতির হানাদারির সমস্যা প্রবল, সেই সব জায়গায় বাস মূলত মেচ, রাজবংশী, গোর্খা প্রমুখ আদিবাসীদের। অথবা একদা কুলির প্রয়োজনে স্বদেশ থেকে ছলে-বলে-কৌশলে নিয়ে আসা সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডাদের। জীবন ধারণের জন্য সামান্য চাষবাস বা শ্রমিকের কাজ ছাড়া এঁদের উপার্জনের বেশি কিছু পন্থা জানা নেই। সেই সামান্য জমিটুকুতে হাতির হানাদারি বা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দিলে সেই ক্ষতির কোপটা গরীব মানুষের গায়ে বাজে বেশি, আর তখনই তারা দল বেঁধে প্রতিহিংসায় মেতে ওঠে। জঙ্গলের উপর নির্ভরশীলতাও এঁদের বেশি। একটা গাছ কাটলে যদি কদিন পেট চলে যায় তাহলে সেটা অনুচিত কেন বা বার বার তার ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে তার পরিবারের মুখের আগামীর অন্ন কেড়ে নেওয়া প্রাণীকে ক্ষমা করা কেন উচিত এটা ভুখা পেটের মানুষকে বোঝানো খুব একটা সহজ না। নিজের ক্ষতি হলে কেই বা মনে রাখে যে আমরা মানুষেরাই আসলে হস্তিদেবতার আবাসে অনুপ্রবেশকারী! এ আমাদের নেহাত সৌভাগ্য যে পশ্চিমবঙ্গে এখনও কোন কেরালার মতন বিস্ফোরক সহ ফল খাইয়ে হাতি মারার মতন নৃশংস ঘটনা ঘটেনি।

তবু দীর্ঘমেয়াদে সংঘাত কোন কার্যকর সমাধান নয়। আবার হাতিকে পুরোপুরি মানুষের থেকে আলাদা করে জঙ্গলের টুকরোতে বেড়া ঘিরে আটকে রাখার ভাবনাও ঠিক তার স্বাভাবিক জীবনযাপনের বাবদে যুক্তিযুক্ত নয়। যেমন যুক্তিযুক্ত নয় তাঁদের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চল অবধি যাতায়াতের পথে বিদ্যুৎ-বাহী বেড়া দেওয়া বা রেল-সড়ক পথের অনিয়ন্ত্রিত-গতির যানবাহনের অনুমোদন। তাই হাতি আর মানুষ দুয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হয় এমন ব্যবস্থা চাই। আর সেজন্য চাই জঙ্গলের মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও তাঁদের সার্বিক আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়ন। প্রয়োজনে স্থানীয় ব্যবস্থার সুযোগ ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে বিকল্প আয়ের সংস্থান করার কথাও ভাবা দরকার। আর সেই সঙ্গে দরকার হাতিদের যাতায়াতের পথের বিঘ্ন দূর করা, সরাসরি পথের উপর থেকে বসতি, আবাদ বা দোকান পাট অন্যত্র সরানো, তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানগুলিতে প্রাকৃতিক খাদ্য সম্ভারের যোগান ও খাদ্যের মান বাড়ানো। আর বিশেষ করে জঙ্গলের মধ্যের জলের উৎসগুলো ঠিক ভাবে রক্ষনাবেক্ষণ করা। মানুষহাতির মুখোমুখি হওয়া ঠেকানো না গেলেও তাদের সংঘাত কমানো বা সংঘাতের অভিঘাত কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরণের পরিবেশ ও জীব বান্ধব ব্যবস্থাও নেওয়া যায়। বসতি বা আবাদ ঘিরে জৈব বাধা যেমন কাঁটাগাছের বেড়া বা বেড়ার গায়ে হাতি তাড়ানোর জন্য মৌমাছির চাক তৈরি বা লঙ্কার মালা ঝোলানো ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়া ওয়াচটাওয়ার বা বিভিন্ন টেকনোলজির সাহায্যে হাতির দলের বা একলা হাতির চলাফেরা সদা নজরে রাখাও একটা উপায় যাতে তারা অতর্কিতে হানা দিতে না পারে। তবে যে উপায়ই নেওয়া হোক ক্রমাগত তার লাভক্ষতির দিকটা নিয়ে মূল্যায়করে যাওয়া দরকার, যে সেই উপায় কোন দীর্ঘস্থায়ী বিপদ ঢেকে আনছে নাকি, তা সে বিপদ মানুষ বা পশুপাখি বা পরিবেশের যারই হোক না কেন। হাতিকে আঘাত না করে তাড়ানোর উপায় বার করা ও যেখানে সংঘাতের সম্ভাবনা বেশি সেই সব গ্রামের লোকদের এই সব উপায় শিখিয়ে তৈরি রাখা, জঙ্গলের লাগোয়া জমিতে এমন ফসল লাগানো যাতে হাতি বিকর্ষণ বোধ করে এবং সেই সঙ্গে সকল গ্রামের মানুষের আয়ের নিশ্চয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাতির বেঁচে থাকার গুরুত্ব বিষয়ে সচেতন করা ইত্যাদি বিভিন্ন দিক থেকেই কিছু কিছু কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়, স্থানীয় মানুষ যতক্ষণ না বুঝে সবাই নিজে থেকে এগিয়ে আসবেন ততদিন হয়ত আমার দেখা ওই হাতিদের মতন সামান্য তৃষ্ণার জলটুকুও শান্তিতে খেতে পারবেনা জঙ্গলের হাতিরা। ‘হাতি মেরা সাথি’ একটা স্বপ্নই হয়ে থাকবে।       

 

 

তথ্য তালিকা

১) Chakraborty, S. Trends and Patterns of Elephant Conservation Management and Human Elephant Conflict Scenario in Forests of Northern West Bengal, India. Proc Zool Soc 75, 319–332 (2022). https://doi.org/10.1007/s12595-022-00442-5

২) Naha, Dipanjan, Sathyakumar, S, Dash , Suraj, Chettri, Abhishek, Rawat, G. S; Assessment and prediction of spatial patterns of human-elephant conflicts in changing land cover scenarios of a human-dominated landscape in North Bengal; (2019) https://doi.org/10.1371/journal.pone.0210580

) Kanagaraj R, Araújo MB, Barman R, et al. Predicting range shifts of Asian elephants under global change. Divers Distrib. 2019;25:822–838. https://doi.org/10.1111/ddi.12898

৪) Naha, Dipanjan & Dash, Suraj & Chettri, A. & Roy, Akashdeep & Sambandam, Sathyakumar. (2020). Elephants in the neighborhood: patterns of crop-raiding by Asian elephants within a fragmented landscape of Eastern India. PeerJ. 8. 10.7717/peerj.9399.

আম-সত্যজিৎ, ছালা-প্রান্তরের গা / স্রোতা দত্ত / ৩য় বর্ষ ১ম সংখ্যা

 

আম-সত্যজিৎ, ছালা-প্রান্তরের গা

স্রোতা দত্ত

ঔপনিবেশিক খোঁয়ারি (colonial hangover)-র বাবু-সংস্কৃতি বেচে আর কতদিন ভণ্ডামি চলবে? বা প্রশ্ন উঠুক, বিলিতি তত্ত্বের রোদচশমা চোখে বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে জাহির-প্রিয় এ রাজ্যের নাগরিক, আর কত দিন রঙিন এ বুদবুদবাস? তার বদলে ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া, চক্ষু মেলিয়া স্বীকার করি না কেন, তুমুল পরিবর্তন ঘটেছে বহু ক্ষেত্রে। কায়েমি স্বার্থে তাকে অস্বীকার করে, পশ্চিমবাংলার মূলধারার ধ্বজাধারী বাবু কালচার তৈরি করেছে মেকি, প্লাস্টিক (প্লাস্টিক আর্ট নয় বরং গৌর ক্ষ্যাপার ‘প্লাস্টিক বাউল’ উক্তি দ্বারা অনুপ্রাণিত) / খেলনা কালচার যা আসলে ভিন্ন মাত্রার শোষণই।

আমরা ‘সোনাঝুরি’ হাটে নাচি না। বাবুরা লজে ডাকলে যাই। হাটে যারা নাচে, তারা সাঁওতালি নয়।” শান্তিনিকেতনের কাছে পর্যটক-প্রিয় সোনাঝুরির হাটের কাছেই বনেরপুকুরডাঙা গ্রাম। ব্রিটিশ আমলে বাবুদের বিলাসবহুল বাড়িতে মুজরোতে যেতেন বাঈরা। স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে বদলেছে অনেক কিছুই। এখন প্রকাশ্যে বাঈনাচ হয় না। বিশ্বায়নের যুগে বাবু ও বিবি মিলে নানা কিসিমের পর্যটকী মজা করে।

এক শ্রেণির বাঙালির জন্য শান্তিনিকেতন পর্যটন সস্তায় পুষ্টিকর। বিশ বছর আগের সংযোজন, শাল সোনাঝুরির মাঝে,  বাউল গান, কাঁথাস্টিচ, বাটিক, গয়না, খেলনা ছাড়াও কলসী মাথায়, লাল পাড়-সাদা/হলুদ শাড়ি পরে মাদলের তালে আদিবাসী নাচ! সব মিলিয়ে মূলত বহিরাগতের মনোরঞ্জনের জন্য রবিন্দো-আদিবাসী-বাউলের ‘টোটাল কালচারাল ককটেল’! কিন্তু এ জনগোষ্ঠীর নিজস্ব নাচের সঙ্গে তার মিল কতটা? ফারাকই বা কোথায়? 

বছর দুয়েক আগে, বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের এক শহরে টুসু পরবের মেলায় গেছিলাম। আশপাশের গ্রাম থেকে ট্রাকে করে এসেছে বড় বড় টুসু। প্রতিমার রং খয়েরি মেশানো গোলাপি। একাধিক ট্রাক ঘিরে চলছে নাচ। বেশির ভাগ ছোকরা নাচিয়ের মাথায় ঘুরিয়ে পরা গলফ ক্যাপ। পরণে কেতার শার্ট, রিপ্‌ড জিন্স, পায়ে চটকদার স্নিকার, গলায় মেলার আয়োজকের দেওয়া আইডেন্টিটি কার্ড। ধমসা বা মাদল নয়, সিন্থেসাইজার ও ড্রামবিট যোগে লাউডস্পিকারে বাজছে সাঁওতালি গান। সংঘবদ্ধভাবে জটিল হিসেবের পদক্ষেপে অর্ধচন্দ্রাকারে ঘুরে ঘুরে সেই নাচে প্রত্যেকে ছন্দোবদ্ধ। ভিডিও করে রেখেছিলাম। দেখাতে এক বন্ধুর অবিশ্বাসী প্রশ্ন, “দুর্গাপুজোয় এমন নাচ হয় নাকি!” কারও মতে, “রীতিমতো মহড়া দিয়ে (যেন হাটের নাচ আপনিই আসে! মহড়ার দরকার হয় না!)! টুসু মূর্তি,  পিয়ানো, স্যাক্সোফোন বাজনায় দীক্ষিত  বাঙালি টুসু নাচে সিন্থসাইজার হজম করতে চায় না। টুসু মানে ছোট মূর্তি, হেঁটো ধুতি, মাথায় পালক – এই ধারণা নাগরিক মনে এখনও বহমান। নয়ের দশকের শুরুতেই ভারতে অর্থনৈতিক উদারতাকে কাছে টেনেছে। সেই অর্থনীতিও ট্রিকল ডাউন সূত্রে ফেলে সাঁওতালদের কাছে মোটরবাইক, অ্যান্ড্রয়েড দেখলে বাবুদের কর্তৃত্ব হারাই হারাই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।

রানি হেম্ব্রম সিয়ান থেকে সোনাঝুরি হাটে নাচতে আসেন। লাকড়া, মাদল, বাঁশি বাজনদার সমেত বার-চোদ্দ জনের দল। সরকারের দেওয়া শিল্পী কার্ডে মাসিক বরাদ্দ মেলে। নাচের পর বাবুরা দিলে তা উপরি। রানি জানালেন, “তা প্রায় বিশ বছর হল, এই হাট হচ্ছে। কলসী মাথায় আগে তেমন নাচ হতো না। ওটা নিয়ে নাচ দেখে বাবুরা আনন্দ পায়। মোবাইলে দেখিয়ে বলে, ‘এই নাচটা কর’ - তো আমরা করি। আমাদেরও আনন্দ হয়। এখন মাঝে মাঝে আমরাও মাথায় নিয়ে নাচি।” হাট বিষয়ে একটু খুঁটিয়ে প্রশ্ন করতেই বললেন, “আগে আমাদের ছোট ছেলেগুলো ওখানে জিনিস নিয়ে বসত। এখন ওদের হটিয়ে মুসলমানেরা জিনিস বিক্রি করে।”

হাট বিষয়ে প্রশ্নে বনেরপুকুরডাঙার একাধিক বাসিন্দা বাক্য বিনিময় এড়ালেন। আবার অনেকেই এক মেগা ধারাবাহিকের স্মৃতি খুঁচিয়ে রেখে বহিরাগতকে গ্রামের নাম বললেন পলাশবনি। সেই ধারাবাহিকের চরিত্রের ঝুটো বাড়ি দেখিয়ে টাকা আদায়ের ফিকিরও আছে। এই এলাকা বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সুবিধাজনক একটি স্পট। ফলে পর্যটক ছাড়াও আদান-প্রদানের পরিসর বিস্তৃত। নজর করলে দু’তরফেই সস্তায় ধান্দাবাজির ফন্দি চোখে পড়ে। 

এই নাম বদল গায়ে লাগে না?”

নাম না বলার শর্তে উত্তর- “আমরা তো জানিই। অন্যান্য গ্রামও জানে। তোমরা ওই নামটা শুনতে চাও তাই বলি। টোটোওয়ালারা রটিয়ে দিয়েছে এটা পলাশবনি। আমাদের তাতে কী? আমরা তো আমাদের গ্রামেই থাকি।” স্থায়ী হাট নিয়ে অভিযোগ বিস্তর তবে তা শুনছে কে? আপাত অনুকম্পার আড়ালে চিহ্নিত নিম্নবর্গীয়দের থেকে ফায়দা লোটায় একদল ভদ্রলোকবাবু যথেষ্ট দড়। “আমরা বলেছি, সপ্তাহে দুদিন নাচ হোক অসুবিধে নেই। কিন্তু সবদিন সকাল-সন্ধে ডুডুডুং ডুডুং ডুডুং মাদল কার ভালো লাগে? খালের ওপারে হরিণ, গাছের পাখিগুলোর কথা কেউ ভাবে না। প্রত্যেক দিন এক গানবাজনা আর ভালো লাগে না।” আক্ষেপ কাঁদন কিস্কুর। তবু বাবুদের মন ও মান রাখতে পাঁচ দিনের হাট। বাকি  দু’দিন কোপাইয়ের ধারে। গুগলি ছাড়াতে ছাড়াতে নুড়কি মুর্মুর দুঃখ, শিল্পী কার্ডের আবেদন করে মেলেনি। বছরে চার থেকে পাঁচবার ওই শীতের সময় বাবুদের লজে নেচে উপরি আয়! একদিনে বার-চোদ্দ জনের দলের জন্য বরাদ্দ চার/পাঁচ হাজার! বাবুদের বিনোদনের বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টায় একদল ভারতবাসীর বছরে রোজগার? সে অঙ্ক কষার দায় বাবুদের নয়।

সাঁওতালরা ডিজে/বক্স বাজিয়ে, লাল নীল আলো জ্বালিয়ে ফিল্মি কায়দায় নাচলে ‘গেল গেল’ রব তুলে ‘অন্য’ সংস্কৃতির বিশুদ্ধতা রক্ষার দায় বাবুদের। তবে এ বিষয়ে বনেরপুকুরডাঙাবাসীদের সাফ জবাব, ‘বিয়েতে আনন্দ করতে সবাই একসঙ্গে ডিজে বাজিয়ে নাচে। তাতে অসুবিধে কোথায়?’ অবশ্য কিশোর রাহুল টুডুর  চটজলদি সাফাই, “ওগুলো ভালো না। তাই তো বাঁধনায় ডিজে বাজে না।” বাবু কালচারের জন্য শীতাতপ নির্ভর বিলাসিতার আয়েস। সাঁওতালরা মাটিই কোপাক। তাতে দু’হাতে ফায়দা। এক দিকে return to innocence-এর সানগ্লাস দিয়ে ওদের প্রতি আহা উহু ও তদ্দজনিত দুঃখবিলাস। অন্যদিকে শিক্ষার আদানপ্রদান নয়, বরং প্রান্তিক চিহ্নিত করে শিক্ষিতদের বেছে দেওয়া বিশেষ পথে তাঁদের শিক্ষিত করে সুবিধাভোগের মসৃণ যাপন ।

হালের বাংলা ধারাবাহিকগুলোতে  অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, এক শহরতলী বা গেঁয়ো মেয়ের সারল্যজনিত ভিন্নতা প্রমাণে চটজলদি উপায় বে-শহুরে উচ্চারণ। বিভিন্ন নারীবাদী লড়াইয়ের মাধ্যমে চলনে বলনে তাকে মূলস্রোতে মিশিয়ে নেওয়ার নিরলস প্রচেষ্টা কি সেই রাজনীতিরই সাংস্কৃতিক প্রতিফলন নয় (অবশ্য বহু ভদ্রলোকবাবুর এই ধারাবাহিক ঘোষিতভাবে তীব্র অপছন্দের)? সেই তালিকাতে  যুক্ত হয়েছে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত দুটি ছায়াছবির গান (শাল মহুয়া— ‘মহানন্দা’, টাপা টিনি—‘বেলা শুরু’)। মহানন্দা ছবিটি লেখিকা ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবীর জীবন নির্ভর। তাঁর সাহিত্য ও রাজনীতি নিয়ে একটা শব্দ খরচ না করেও প্রশ্ন করা যেতে পারে, হে এই ছবির গায়ক/গায়িকা সুরকার, গীতিকার, পরিচালক, কুশীলব ও প্রশংসাকারীরা, আর কতদিন মাদলের নামে ড্রাম বাজিয়ে, মেকি-গ্রাম্য বাংলায়, মাথায় পাতা গুঁজে ধেইনৃত্যকে আদিবাসী সংস্কৃতি বলে প্রচার এবং তার বিপণনে স্বার্থাণ্বেষণ জারি থাকবে? ‘আমি তোমাদেরই লোক’-এর মুখোশে এ লুণ্ঠন আর কত দিন?

অবশ্য তলিয়ে দেখলে দেখা যাবে এই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা অর্থনৈতিক উদারবাদের থেকেও পুরনো। আর তা কেবল দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যমে আবদ্ধ এমনও নয়। কলকাতার কোনও কোনও কবি-সাহিত্যকি শাল-মহুয়া, হাঁড়িয়া দিয়ে চাঁইবাসা, ডালটনগঞ্জ, মারোমার বিখ্যাত করে তুলেছিলেন? তাঁরাও কি কারও চোখে ‘বাবু’? অথবা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত অরণ্যের দিন রাত্রি-তে আদিবাসী দুল্লি কাকে/কাদের ‘বাবু’ সম্বোধন করেছিল? 

এই পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনা করলে সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষে তাঁর শেষ ছবি আগন্তুক তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক উদারবাদ শুরুর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এই ছবি মুক্তি পেয়েছিল। খুব সরলরৈখিক ব্যাখ্যায়--  ধ্বংসাত্মক হিংসা, সমাজনীতি, রাজনীতির বিস্তর কচকচানির বিপ্রতীপে সারল্য প্রমাণে এক ভূ-পর্যটকের জন্য মাদল, বাঁশি আর গানের সঙ্গে আদিবাসীরা নাচ উপস্থাপন করে। ভাবানন্দে ভেসে সেই নাচে পা মেলায় কলকাতার এক মহিলা। সে তানপুরা সহযোগে ‘বাজিল কাহার বীণা’ও গাইতে পারে। মিল আছে কিন্তু হায়! রায়বাবুর শৈল্পিক দায়বদ্ধতার এড়িয়ে তাঁর মতের বাণিজ্যকরণ ছাড়া বাঙালিবাবু আর কী পারে? তাই সাংস্কৃতিক আম হিসেবে রবীন্দ্রনাথের পরে রইলেন সত্যজিৎ রায় আর ছালা হিসবে প্রান্তিক ও প্রান্তরের প্রতীক সাঁওতাল।

--

স্রোতা দত্ত ইংরাজি সাহিত্যের ছাত্রী। সাংবাদিক ও সমাজ গবেষক।

উত্তরবঙ্গের হাতি আর মানুষ – সংঘাত নাকি সহাবস্থান / স্বাতী রায় / ৩য় বর্ষ ৩য় সংখ্যা

  উত্তরবঙ্গের হাতি আর   মানুষ – সংঘাত নাকি সহাবস্থান স্বাতী রায় দৃশ্যটা প্রথম দেখেছিলাম উত্তরবঙ্গ থেকে অনেক দূরে, উত্তরাখণ্ডের রাজাজী ...