চুক্তিতেই মুক্তি?
সুদেষ্ণা দত্ত
চুক্তি চাষ শব্দটি কি চাষীদের কাছে নতুন? উত্তর হল - না। ভাগ চাষও এক প্রকারের চুক্তি চাষই। এই জায়গা থেকে আমরা এখন বাদ রাখতে পারি কৃষি শ্রমিকদের। কারণ নগদ অর্থের বিনিময়ে যে শ্রম দান করে, তার না ফসলের ওপর অধিকার আছে, না অধিকার আছে উৎপাদনের রকম কেমন হবে, বীজ কেমন হবে, সার কী হবে, কোন জমিতে কেমন চাষ হবে তার ওপর। সে মতামত দিতে পারে, কিন্তু তার মত নেওয়া হবে কি হবে না সেটা নির্ভর করে জমির মালিকের মর্জির ওপর। আমার ব্যবসায়ী বন্ধুটি – যে কিনা বীজ ও সারের ব্যবসা করে, সে বংশপরম্পরায় চাষীদের সঙ্গে তাদের পরিবারের চুক্তি-চাষের সম্পর্কটির কথা স্বীকার করে। পুজোর আগে রাঁচির আশে পাশে থাকা ক্ষেতগুলিতে যে ফুলকপি চাষ হয়, তার বেশির ভাগ দাদন বা চুক্তি চাষের অন্তর্ভুক্ত। Mono cropping বা এক ধরনের ফসল/সবজি চাষের উদাহরণ আমাদের দেশের যাপিত বাস্তব। তাহলে কর্পোরেট কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি চুক্তি চাষের যে মডেলটি এসেছে, সেটা নিয়ে ভুরু কুঁচকানোর মানে কী? কেবল দলগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন ? নাকি পরিবেশ-ভিত্তিক চাষের যে মতটি ক্রমশ চিন্তা-ভাবনার পরিসরে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে, তার যুক্তির আলোকে এই মডেলটি পরিবেশ ও খাদ্য-সুরক্ষার প্রেক্ষিতে সর্বনাশা প্রতিপন্ন হচ্ছে ?
চুক্তি-চাষের পক্ষে অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন
ক) সরকারি মান্ডি চালকল মালিক ও ফড়েদের নিয়ণ্ত্রণে থাকার জন্য সেখানে খোলা বাজারের চেয়েও কম দাম মেলে। দামে স্বচ্ছতা থাকে না।
খ) উৎপাদিত বস্তুর দাম পাওয়া যাবেই, সেই নিশ্চিন্ততা থাকে। ( তা সে মাঝে মাঝে খোলা বাজারের থেকে কুইন্টাল প্রতি তিনশ টাকা কমই হোক না কেন)। অনেকটা চাকরির মাস-মাহিনার নিশ্চিন্ততা বনাম স্বাধীন ব্যবসার অনিশ্চিয়তার মতো)
গ) চুক্তি চাষে কৃষক বীজ ও কীটনাশক কেনার খরচ থেকে রেহাই পান। তাকে দিতে হয় সেচের খরচা, সারের খরচা ও শ্রমের খরচা।
ঘ) চাষ মার খেলে তার লোকসান বহন করে ভেন্ডাররা যারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে সবল ব্যবসায়ী চাষী।
ঙ) বহুজাতিক সংস্থার কর্মচারীরা নিজের স্বার্থেই জলবায়ুর আগাম খবর দেন, প্রতিষেধক ও রোগের ওষুধ (পড়া যাক কীটনাশক) বলে দেন।
চ) হিমঘরে রাখার ঝামেলা থেকে চাষী মুক্তি পায়।
ছ) হারভেস্টার ইত্যাদি যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।
অতএব ফসল ফলানোর দায়টুকু নেওয়া ছাড়া কৃষকের আর কোন মাথাব্যথা থাকে না। তার সঙ্গে চাষের অর্থকরী দিকটি মোটামুটি হলেও সুনিশ্চিত হয়। কোন একটা কি দুটো কম্পানির হাতে যাতে দেশের পুরো চাষের উৎপাদিত সামগ্রীর মৌরসিপাট্টা চলে না যায় এবং চাষিদের সঙ্গে চুক্তি হওয়া টাকা দেওয়া নিয়ে কোম্পানীর লোকজন যাতে কৃষকদের হেনস্থা করতে না পারে, - মূলত এই দুটি ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে পারলেই বর্তমান কৃষি আইনের মডেলটিতে সবিশেষ খুঁত থাকবে না। অর্থাৎ মূল প্রশ্নটা নীতির। চুক্তি চাষের মধ্যে চাষিকে কোন ভাবেই ঠকানো যাবে না, হবে না - সেই নৈতিকতা কে সুনিশ্চিত করে ফেলতে পারলেই চুক্তি চাষ ভালো।
তবে নীতি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে, চুক্তিচাষের ক্ষেত্রে অন্তত সুস্থ অর্থনীতির সঙ্গে পরিবেশনীতি, সরকারি কৃষি বিভাগের কার্যনীতি এবং ক্রেতার (জনসাধারণের) সুরক্ষিত খাদ্যনীতিকে এক করে না দেখলে কৃষি এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত / সম্পৃক্ত সমস্যাগুলিকে অবজ্ঞা করা হবে। কেবলমাত্র চাষির হাতে কত টাকা এল, সেটা দিয়ে চুক্তিচাষের মডেলটি বিচার করলে তা আরেক ধরনের অপরিণামদর্শিতার জন্ম দেবে।
২০১৯ সালে এক পরিবারের সঙ্গে আলাপ হওয়ার সুযোগ হয়। বিধবা মহিলা, প্রত্যন্ত গ্রামে থাকেন, তিন নাবালক মেয়েকে নিয়ে চাষাবাদ করেন। স্থানীয় এক NGO সংস্থাকে কিছু উৎপাদিত সবজি বেচেন। বাদবাকি ফড়েরা নিয়ে যায়। অন্যের অপর নির্ভর করা ছাড়া ফসল বিক্রির আর কোন উপায় তার নেই। এবার ধরা যাক তিনি চুক্তি-চাষের আওতায় এলেন। এবং তার সব টুকু জমিতে চুক্তিমত ফসল উৎপাদন করলেন, এবং তাঁর উৎপাদন কোন ভাবে মার খেল, কোম্পানি টাকা দিতে অস্বীকার করল, এবার তিনি সেই টাকা পাওয়ার জন্য কোথায় ছোটাছুটি করবেন? তাতে কত উপরি খরচ পড়বে? অক্ষর-জ্ঞানহীন মহিলা হবার জন্য তিনি কী চুক্তির সব ধারা পড়তে পারবেন? বা সর্বত্র তাঁর বক্তব্য শোনার নীতিটি বজায় থাকবে ? পরের বারে চুক্তিভঙ্গ হবে না এই সুরক্ষা কবচ তিনি কোথা থেকে যোগাড় করবেন? এমনিতেই যে সমাজ নীতি তাকে লাভের অঙ্কে ঠকিয়ে আসছে, সেখানে চুক্তি-চাষের ক্ষেত্রে সেই নীতি কোন সুরক্ষা কবচ ছাড়াই মহিলা চাষিদের স্বার্থরক্ষা করবে এমনটাইবা ভাবা হবে কেন? নাকি তিনি শহরে এসে গৃহ-পরিচারিকার কাজ নিতে বাধ্য হলে তার প্রতি পূর্ণ ন্যায়বিচার হবে?
ন্যায়বিচারের শর্ত মানতে গেলে বীজের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রক হবে চাষিরাই। তাতে তাঁরা ফসলের উৎপাদন, কার্যকারিতা, উন্নতিসাধন, এবং তার জন্য নিজের প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবেন। কৃষকেরা কৃষিবিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি গঠনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। এটাই তো নীতি হওয়া উচিৎ।চুক্তি-চাষে বীজ আসে এবং ভবিষ্যতে তা আসবেও কোম্পানির ঘর থেকে। সেটির জাত হবে exclusive। দেশি বীজ হলে তার স্বত্ত্ব কেবল কোম্পানির হাতে থাকে না। ল্যাবরেটরির ঘেরাটোপে যে বীজের জন্ম, তার দরকার বেশি জল, বেশি সার, বেশি কীটনাশক। এই বেশির চক্করে যেটা প্রথম যায় সেটি হল মাটির ভারসাম্য - সহজ ভাষায় ঊর্বরতা আর দেশি বীজের অস্তিত্ব। শুধু কি মাটির জীবনের ভারসাম্য যায়, আর তার আশে পাশের জল জীবনের ভারসাম্য? মাটির তলার জলের ভারসাম্য? সেচের খরচ বাড়ে, বাড়ে সারের খরচ। ভারসাম্য হারাতে থাকা মাটি-চষার শ্রমের খরচ বাড়ে। এবং এর কোনটারই নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা কৃষকের হাতে থাকে না। থাকার ব্যাপারটি নিয়ে চুক্তি চাষের নীতি কোন কথা বলে না। গুজরাটে ন-জন কৃষক আর পেপসিকোর মামলার কথাই ধরা যাক। কোম্পানি এই কৃষকদের কাছ থেকে কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চায় এই মর্মে যে তাঁরা পেপ্সিকোর চিপসের জন্য নির্ধারিত আলুর ভ্যারাইটি আলাদা করে চাষ করে মাণ্ডিতে বেচেছেন। ২০১৯ সালে মামলার রায় কৃষকদের পক্ষে গেলেও ভবিষ্যতের জন্য এই বার্তা রেখে গেছে যে, কোম্পানি অধিকৃত বীজের নিয়ন্ত্রণ-এর উপর কৃষকদের স্বাভাবিক অধিকারটি আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করতে হয়।
আবার কেবল মাত্র অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রাখতে গিয়ে, একই ধরণের ফসলের চাষ এবং তার অভিঘাতে অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়। খাবারের পাত থেকে এবং রোজকার জীবন থেকে খাদ্যবৈচিত্র্য বেমালুম হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় বহুমাত্রিক চাষের সুরক্ষা ও পরিবেশ। চাষের খরচ এবং খাবার কেনার খরচের সঙ্গে অপুষ্টির খরচ যোগ দেয়।
ধরা যাক, চাষি তার দেড়-বিঘে জমির সবটুকু চুক্তি চাষে লাগিয়ে দিল। প্রশ্ন থাকে সে নিত্য খাবার কেনে কোথা থেকে? তার দৈনন্দিন খাদ্য বস্তু কী কী? তার সংসারের খরচ বেড়েছে না কমেছে? তার পশু-পালনের সংস্থান আছে কিনা? আলু ব্যতিরেকে সে কী কী চাষ করে বা আদৌ করে কিনা? আলুর সময় চলে গেলে সে কোন কোন অসুবিধে বা সুবিধের সম্মুখীন হয়? বাজার থেকে কিনতে হয় না এমন খাদ্য বস্তু, নিত্য প্রয়োজনের বস্তু সে আশ পাশ থেকে পায় কিনা? সেচে তার ডিজেল খরচ আছে কি না? বিদ্যুতের বিল সে কী ভাবে দেয়? দেখা উচিত রাসায়নিক কী্টনাশকের ক্রমাগত ব্যবহারের পর তার ও তার পরিবারের স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা? বাড়ির মহিলাদের সংসার সামলানো ছাড়া আর কী কী কাজ করতে হচ্ছে? পরিবারটির বিশ্রামের সময় আছে কিনা? তাদের সঞ্চয়ের হাল কী? তার ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা কী? আর দেখা উচিত চিপস কোম্পানি তার লাভের যত অংশ ঘরে তুলছে, তার থেকে ফড়ে এবং চাষীর শতকরা ভাগ কতটা? জিজ্ঞেস করা দরকার কৃষকের নিয়ন্ত্রণে যদি আলু বীজের অধিকার চলে আসে, তাহলে সে আর কী কী ভাবে সেই অধিকার নিজের পরিবারের উন্নতির জন্য কাজে লাগাতে পারে? সে কী বীজ ও সার কেনার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে চায়? চাষের খরচ কমলে তার লাভ না কি শুধু চুক্তির টাকাটা নিয়ম মাফিক পেয়ে গেলেই তার অন্যান্য সমস্যার সমাধান হয়?
কৃষিমিত্র, প্রাণীমিত্র, গ্রামীন কৃষি দপ্তর, পঞ্চায়েত অফিস এই সব কটি যদি সঠিক ও নিজেদের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের কথা, রোগ নির্ণয়, ওষুধ প্রয়োগ, পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে নতুন চাষের পদ্ধতি, বিষমুক্ত খাবারের চাহিদা সম্পর্কে জানানো, দেশি বীজ সংরক্ষণ ও তার উন্নতি সাধন ইত্যাদি বস্তুগুলি জানতে কৃষকদের আর কোম্পানির মুখ চেয়ে থাকতে হয় না। চুক্তি-চাষের বাইরেই কৃষক এই সব কটি সুবিধা পেতে পারে। সরকারই বা তার নৈতিকতার দায়ভার কৃষকদের Minimum Support Price -এর ঠেকনো দিয়ে এড়িয়ে যাবে কেন?
একই পংক্তিতে মান্ডির অসাধু-চক্রের কথা আসে। দরকার মান্ডি ব্যবস্থার বিকেন্দ্রিকরণ এবং গ্রাম ভিত্তিক মান্ডি গঠনের কাজ। যাতে মান্ডি অবধি ফসল নিয়ে যাওয়া টা কৃষকের মাথাব্যথার কারণ না হয়ে পড়ে। দরকার খোলা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারটি মাথায় রাখা। দ্রেজে বলছেন FCI এর ফসলের গুদামজাত করার ব্যবস্থার বদলে যদি বাজারে পণ্য সামগ্রির লভ্যতা বাড়ান যায়, খোলা বাজারে দাম নিয়ন্ত্রনে থাকে। মাণ্ডি ও খোলা বাজারে দামের অস্বচ্ছতা কমে।
এ প্রসঙ্গে হিমঘরের কথা আসে। বড় হিমঘর বেশি খরচ, ছোট-পরিবেশ ভিত্তিক হিমঘর কম খরচ। সব কিছু কর্পোরেটের নৈতিকতার ভরসায় ছেড়ে দিলে, কৃষকের সুরক্ষা কি সুনিশ্চিত হবে? না কি সরকার, কৃষক-সমবায় ও বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এই তিনটি বিষয় এর মধ্যে পারস্পরিক সামঞ্জস্য থাকলে পরে কৃষকদের স্বার্থ সুনিশ্চিত হবে?
কৃষকও কিন্তু ক্রেতা সমাজের অধীন। সাকিলা খাতুনের বাড়িতে ছ’টা সজনে গাছ আছে। সে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার উজিয়ে এসে শামপুরের বাজারে সজনে ফুল ৯০ টাকা কিলো দরে বিক্রি করে। বাসন্তী দাস পুকুরের খোল থেকে হিংচে, মাঠ থেকে কলমি, কুলেখাড়া আনে। বাজারে ব্রকোলি আর লেতুস ও পাওয়া যায় শীতকালে। আমি ব্রকোলির বদলে কলমিকে বেছে নিই। চুক্তি চাষের পরিবেশগত চাপে এবং কেবল মাত্র অ্র্থকরী ফসল ফলানোর তাগিদে যদি ওই ছটি সজনে গাছ সাকিলা বিবি না রাখতে পারেন, তবে ক্ষতি শুধু সাকিলা বিবির না, আমারও। আমাকে ইমিউনিটি বাড়াতে অনেক বেশি দাম দিয়ে শিশিবন্দী মোরিঙ্গা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল কিনতে হবে। সাকিলা বিবি নিজের পাতে বিনামূল্যে সজনে ফুল খেতে পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, আর হারাবেন ফুল বেচার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। পাশের রিলায়েন্স মার্টে যে মোচা বিক্রি হয় তার থেকে অনেক বেশি টাটকা মোচা পাওয়া যায় বাজারে ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে, যাদের বেশিরভাগ হলেন মহিলা। মোচা বাড়ির না চাষের সে সম্বন্ধে আমি-ক্রেতা সরাসরি জানতে পারি। কিন্তু রিলায়েন্সের “সেলস-পার্সন”টিকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতে পারেন না, হিমায়িত মোচাটি কোথা থেকে এসেছে। বাড়ির না চাষের।
মর্ডান বেকারির মত লোকাল কোম্পানি প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে না পেরে নিজের স্বত্ব হিন্দুস্তান লিভারকে বেচে দিতে বাধ্য হয়। বাজারে প্রতিযোগিতার যে ছবি আঁকা হয়, তা বাস্তবে বজায় থাকে না। এই ভাবে সব বেকারিগুলিকে বড় কোম্পানিগুলি যদি গিলে খায়, আমার কাছে বেছে নেওয়ার বিকল্প কোথায় থাকল? চুক্তি-চাষের কর্পোরেট ঢুকে যদি একচেটিয়া রাজত্ব তৈরি করে, তাহলে প্রতিযোগীতার বাজার-এর ছবি অর্থাৎ চাষীর অনেক বিকল্প পাবার সুবিধা, পছন্দ মাফিক দাম ঠিক করার সুবিধে- সেগুলি যেমন থাকবে না, তেমনি ক্রেতার বাজারে গিয়ে বিকল্প জিনিস বেছে নেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে না। চুক্তি চাষের পর বাজারের নিয়ন্ত্রন যদি কর্পোরেট নিয়ে নেয়, তাহলে ক্রেতাও সেই নিয়ন্ত্রণের অধীন হবে। কলমী শাক খাব কি খাব না, খেলে কত দাম দেব, তা আর আমার পছন্দের অধীন থাকবে না। দুটি জৈব আলুর দাম ২০১৯ সালে এক শপিং মল এ দেখেছিলাম ১০৮ টাকা। আমার জানার ইচ্ছে হয়েছিল কত টাকা লেগেছে উৎপাদনে এবং চাষী কত টাকা পেয়েছে। আরও মনে হয়েছিল ছিল- স্বাস্থ্যসুরক্ষা কি কেবল বড়লোকেদের একচেটিয়া সম্পত্তিতে পরিণত হচ্ছে? এই তথাকথিত জৈবচাষের আলুর ওপর নিম্ন ও মধ্য অর্থনীতি বর্গের মানুষের অংশীদারিত্ব কোথায়?
---
সুদেষ্ণা দত্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক সমাজ/অর্থনীতি তাঁর গবেষনার মুখ্য বিষয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন