ব্রয়লার মুরগি, না সাদা বিষ
সন্দীপ ভট্টাচার্য
সাদা বিষ। হোয়াইট পয়জন। চিনিকে এখন আমরা অনেকেই এ নামে চিনি। কিন্তু শুধুই চিনি নয়। যদি ভেবে দেখি, সাদা বিষের তালিকা কিন্তু বেশ দীর্ঘ হতে পারে। আর এই তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে ব্রয়লার মুরগি। সাদা ধবধবে, সুলভ, সুস্বাদু লোভনীয় বিষ। কেন বিষ? সে কথায় আসছি। তার আগে বরং জেনে নিই ‘ব্রয়লার মুরগি’ বস্তুটি কী?
আমি অনেককে বলতে শুনেছি, ব্রয়লার মুরগির জন্ম নাকি মুরগির সঙ্গে শকুনের ক্রশ করে। এ কথা মোটেই সত্যি নয়। জাতে বিদেশী হলেও ব্রয়লার মুরগি সমস্ত দিক থেকেই খাঁটি মুরগি। আমাদের দেশি মুরগিরই মত। জিনগত বৈচিত্র্যের কারণে তারা দেশি মুরগি থেকে আলাদা। ব্যস এইটুকুই। মানে বলতে পারেন, দেশি টোমাটো আর হাইব্রিড টোমাটোর যেমন তফাৎ, সেরকম আর কি। আমার এক প্রতিবেশিকে একবার দেখেছিলাম, ডজনখানেক ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা নিয়ে এলেন বাড়িতে পুষবেন বলে। তা বাচ্চাগুলো দিব্যি ঘরের দেশি মুরগির মতই খাবারদাবার খেত, খুঁটে খুঁটে পোকামাকড় ধরে খেত, চড়ে বেড়াত উঠোনে-বাগানে। এইভাবে কয়েকমাসে তারা দিব্যি বড়ও হয়ে গেল। তাদের গড়ন হল দেশি মুরগির মতই। চর্বিহীন, এবং দ্রুতগামী ফিট শরীর। ভোরবেলা দেশি মুরগির মতই অবিকল ‘কোঁকরকোঁ’ করে সমস্বরে ডাকতেও শিখে গেল তারা। সাদা রঙ ছাড়া আর কোনও চিহ্নই ছিল না তাদের ব্রয়লারত্বের। এ কথা বললাম এই কারণে যে, ব্রয়লার মুরগি মাত্রেই খারাপ, আর দেশি মুরগি মাত্রেই ভালএমন একটি ধারণাও আজকাল আমাদের মধ্যে ছড়াচ্ছে। তা যে ঠিক নয়, এ কথা বোঝাতে।এবার বোধহয় বিষয়টা একটু গুলিয়ে গেল, তাই না? আমি শুরু করলাম এই বলে যে ব্রয়লার মুরগি বিষ, আবার এখন বলছি, সে কথা ঠিক নয়। তবে?এখানেই লুকিয়ে আছে আসল সত্যিটা। এবং অনেকেই হয়তো ব্যাপারটা ধরেও ফেলেছেন। আজ্ঞে হ্যাঁ, মুরগি নয়, আসল কালপ্রিট হল মুরগি পালনের তথাকথিত ‘বিজ্ঞানসম্মত’ পদ্ধতি, তাদের ওষুধ আর খাবার।
প্রথমে আসি মুরগি পালনের পদ্ধতির প্রসঙ্গে। ব্রয়লার মুরগি অতিরিক্ত সংখ্যায় পালন করা হয়। এখন, কোনও একক পরিমাণ জায়গায় কতগুলি জীব (গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ সব মিলিয়ে) সুস্থভাবে জীবনধারণ করতে পারে, তার একটি নির্দিষ্ট মাপ আছে। জীববিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বায়োমাস বা জীবভর বলা হয়। পোলট্রিফার্মে ভূমির ধারণক্ষমতার থেকে অনেক বেশি প্রাণী পালন করা হয়। ফলে সেখানে আর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে না। প্রাণীগুলি ঠাসাঠাসি হয়ে বাস করে বলে রোগ হলে তা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে যথেষ্ট। তাই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাদের ওযুধ প্রতিষেধক যথেচ্ছ খাওয়ানো ছাড়া উপায় নেই। তা সত্বেও এদের মধ্যে রোগের প্রকোপ লেগেই থাকে, এটা আমি আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় দেখেছি। হাসপাতালে যেমন আইসিইউ চেম্বার থাকে, পোলট্রিফার্মগুলি হল ঠিক সেইরকম, মুরগির আইসিইউ চেম্বার। তাদের রক্ষণাবেক্ষণের সামান্যতম ত্রুটিও তারা সহ্য করতে পারে না। ব্রয়লার মুরগিগুলি দিনরাত তাদের মলমূত্রের ওপরেই বসে থাকতে বাধ্য হয়। তাই এদের মধ্যে সালমোনেল্লা এবং ই. কোলাই সংক্রমণের হার খুব বেশি এবং প্রায়শই তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। পরিণত মুরগিগুলি একসাথে পাঁচ পা’র বেশি হাঁটতেই পারে না। খেয়াল করে দেখবেন, তারা যেন সবসময়েই হাঁপাচ্ছে। তারা যেন ঠিক সুস্থ নয়। এর সঙ্গে যোগ করুন বন্দী থাকার যন্ত্রণা। না, মুরগি বলে সেটা হেসে উড়িয়ে দেবেন না যেন। বন্দী অবস্থায় এবং কষ্টকর জীবনযাপন করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ক্ষরণ বেড়ে যায় জানেন হয়ত। তবে এটাও জানুন, মুরগি হলেও কথাটা ওদের ক্ষেত্রেও সত্যি। এবং স্ট্রেস হরমোনগুলি শরীরে ফ্রি ব্যাডিক্যাল (Free Radical) তৈরির প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফ্রি র্যাডিক্যাল যত তৈরি হবে শরীর তত ভাঙতে থাকবে। শরীর দুর্বল হলে স্বাভাবিকভাবেই রোগব্যাধি বেশি হবে। যদি আপনাকে রাখা হয় ওভাবে কিছুদিন, আপনি এমনিই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। এমন কয়েদখানায় বড় হওয়া মুরগির মাংসে ও ডিমে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেশি হবে এবং তা আসবে আপনার শরীরে। অতএব যতই বলা হোক বিজ্ঞানসম্মত, অস্বাভাবিক ও কৃত্রিম পদ্ধতিতে প্রাণী পালন মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে না।একথা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন, গ্রামে গৃহস্থবাড়িতে যেভাবে হাঁসমুরগি পালন করা হয় তা খেয়াল করলে। মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা হাঁসমুরগি অনেক বেশি স্বাস্থ্যবান, বলিষ্ঠ। তারা সারাদিন উঠোনে বাগানে চড়ে বেড়ায়, আবার সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আসে। আমি দেখেছি সহজে তারা রোগাক্রান্ত হয় না। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদের ডিম-মাংস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে এখন অনেকের টনক নড়েছে (বলে মনে হচ্ছে) সেটা হল ওষুধের ব্যবহার। ব্রয়লার মুরগিকে জন্ম থেকেই যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো শুরু হয়। এটা করা হয় তাদের রোগ সংক্রমণ ঠেকাতে এবং ওজন বাড়াতে। একটু আগেই বললাম, যে পরিবেশে তাদের পালন করা হয় তাতে সালমোনেল্লা ও ই. কোলাই সংক্রমণ খুবই স্বাভাবিক। তা ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। ব্যবহার করা হয় টেরামাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, নিওমাইসিন, ট্রায়ক্সিসাইক্লিন ইত্যাদি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। ফলে ব্রয়লার মুরগি তো বাঁচল, কিন্তু তারা হয়ে গেল একেকটি অ্যান্টিবায়োটিকের ডিপো। কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ অ্যানিমাল অ্যান্ড ফিশারি সায়েন্স-এর বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এই বিপদের কথা। মুরগির শরীরে থেকে যাওয়া ঐ অ্যান্টিবায়োটিক মাত্রাহীন হারে ঢুকছে আমাদের শরীরে তাদের মাংস আর ডিমের মাধ্যমে। ফলে আমাদের শরীর তাদের প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের সাইড এফেক্টের কথা তো কমবেশি সকলেই জানেন। অ্যান্টিবায়োটিক শরীর দুর্বল করে দেয়। হজম এবং রেচনক্রিয়ার নানা গোলযোগ তৈরি হয় এ থেকে। এছাড়া আছে আরেক বিপত্তি। মুরগিদের বর্জ্য ও দেহাংশের সাথে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি মাটিতে ও জলে মিশছে। পোলট্রি-বর্জ্য অনেক জায়গায় সার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ঐ ক্ষেতের ফসলেও মিশে যাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। এতে একদিকে আমরা যেমন শরীরকে অ্যান্টিবায়োটিকের গোডাউন বানিয়ে ফেলছি, অন্যদিকে মাটিতে থাকা জীবাণুরাও দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক আর আপনার রোগ সারাতে পারছে না। সাধারণ সর্দি-জ্বরও আজকাল সহজে সারে না̅ ̶ এ ব্যাপারটা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। আগে যেখানে ৩ দিনের ডোজেই সেরে যেত সর্দি-জ্বর, সেখানে এখন লাগছে ৭ দিনের ডোজ।কঠিন রোগগুলির কথা তো ছেড়েই দিলাম। আমার ছেলেবেলায় ইনফ্লুয়েনঞ্জা ডেঙ্গি তো এত প্রাণঘাতী ছিল না। অর্থাৎ একদিকে আমাদের লিভার, কিডনি, হাড়-মজ্জা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক অকেজো হয়ে পড়ছে। এই বিষয়টি সামনে আসাতে আমেরিকা আর ইউরোপিয়ান দেশগুলি মুরগি ফার্মে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ভারত সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা যায়নি।
এবার আসি তৃতীয় সমস্যায় ̶ খাদ্যসমস্যা। ব্রয়লার মুরগির খাবার সাধারণ খাবার নয়। অনেকেই হয়তো জানেন, এদের খাবার পোলট্রি কোম্পানিগুলি বিশেষভাবে তৈরি করে। এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মতই তাতে যথেচ্ছভাবে মেশানো হয̶় আর্সেনিক। যে আর্সেনিক-দূষণ নিয়ে আমরা এত কথা শুনি, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে মেশানো হয় মুরগির খাবারে। কারণ কী? তিনটি কারণে মেশানো হয় আর্সেনিক। এক, মুরগির ডায়েরিয়া ঠেকাতে, দুই, তাদের সাদা রঙ বজায় রাখতে, এবং তিন, তাদের বৃদ্ধিকে দ্রুততর করতে।
একটি ১ দিনের বাচ্চা মুরগিকে খাইয়ে-দাইয়ে বড় করে বিক্রয়যোগ্য করে বাজারে যোগান দেওয়া হয় মাত্র ৩৫-৪০ দিনে। ঐ ক’দিনে তাদের গড় ওজন দাঁড়ায় ২ থেকে ২.৫ কেজি। এই ওজন হতে সাধারণ ঘরে পোষা মুরগির লেগে যায় প্রায় দেড়বছর। তো ঐ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য যদি তাদের প্রচুর খাবার খাওয়াতে হয়, তাহলে তো লোকসান। তাই ব্যবসায়ীদের চেষ্টা থাকে, যতটা সম্ভব কম খাবার খাইয়ে তাদের ওজন যতটা সম্ভব বাড়িয়ে নেওয়ার। আর এই কাজেই তাদের সহায়ক অ্যান্টিবায়োটিক আর আর্সেনিক। এগুলি খাবারে মিশিয়ে দিলে তা খুব তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায় এবং পাখিদের ওজনও জলদি বাড়তে থাকে।
প্রকৃতিতে একটি সুসংবদ্ধ নিয়ম আছে। তা হল, ১ কেজি প্রাণীজ প্রোটিন, তা সে দুধ-মাছ-মাংস যাই হোক না কেন, তৈরি হতে ১০ কেজি উদ্ভিজ্জ খাদ্য লাগে। অন্যভাবে বলা যেতে পারে, আপনার ওজন যদি ১ কেজি বাড়াতে চান, আপনাকে ১০ কেজি ঊদ্ভিজ্জ খাদ্য খেতে হবে। তো ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে এই হিসাব মানতে গেলে বুঝতেই পারছেন, যে দামে আপনি মুরগি কিনছেন, দাম তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে। আর এখানেই খেল দেখাচ্ছে আর্সেনিক। খাবারে তা মিশিয়ে দিলে ১ কেজি মাংস পেতে খাবার খাওয়াতে হচ্ছে মাত্র ১.৮ কেজি। অর্থাৎ ২ কেজি ওজনের একটি মুরগি, যা আপনি দোকান থেকে কিনে আনছেন, তা সারা জীবনে খাবার খেয়েছে মাত্র ৩.৬ কেজি। তবেই বুঝুন!
মুরগির খাবারে ব্যবহার করা হয় জৈব আর্সেনিক যৌগগুলি। এগুলি মূলত তিন রকম। ১) রক্সারজোন, ২) আর্সেনালিক অ্যাসিড এবং ৩) নাইট্রাজোন। এদের মধ্যে আমাদের দেশে পোলট্রি ফিডে বহুল ব্যবহৃত হয় রক্সারজোন এবং নাইট্রাজোন। এগুলি মুরগির মাংস এবং ডিমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আমাদের শরীরে ঢুকতে থাকে। এছাড়া ঐ পোলট্রির বর্জ্য চাষের ক্ষেতে জৈবসার হিসাবে ব্যবহৃত হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিকের মতই তা মাটি ও জলে মিশে যাচ্ছে। ফলে শস্য, শাকসবজী, দুধ, মাছ- সবকিছুতেই মিশে যাচ্ছে আর্সেনিক।আর তা চারদিক থেকে স্রোতের মতো এসে ঢুকছে আমাদের শরীরে। একথাতেও যদি আপনার খুব একটা হেলদোল না হয়, তাহলে এবার আসি আর্সেনিকের বিষক্রিয়া প্রসঙ্গে।
আমাদের শরীরের কোষগুলি শক্তি উৎপাদন ও বার্তা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করে একটি বিশেষ যৌগ। যাকে বলে ATP বা অ্যাডিনোসিন ট্রাই ফসফেট। এই ATP-র একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ফসফেট। এখন শরীরে বেশিমাত্রায় আর্সেনিক ঢুকলে যা হয়, আর্সেনিক যৌগগুলি অনেকসময় আর্সেনেট মূলকে ভেঙে যায়, যা হাবেভাবে অনেকটা ফসফেটেরই মতো। ফলে আর্সেনেট তখন কোষের ফসফেটকে সরিয়ে তার জায়গায় বসে পড়ে। এর ফলে শুরু হয় বিষক্রিয়া। কোষের শক্তি উৎপাদন ব্যহত হয়, বাধা পায় বার্তাবহনের কাজও। ধীরে ধীরে অনেকদিন ধরে শরীরে আর্সেনিক জমা হতে থাকলে ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়ায় স্লো-পয়জনিং-এর মতোই। আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় শরীরে ভিটামিন Aএর ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া হৃদরোগ, শ্বাসনালী ও ফুসফুসের কাজে ব্যাঘাত, ডায়াবেটিস, গলব্লাডারের রোগ থেকে চামড়ার ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। শরীরকে বিষমুক্ত রাখার যে দুটি প্রধান অঙ্গ, সেই লিভার আর কিডনির কার্যক্ষমতাও ক্রমশ কমতে থাকে।
২০১১ সালে আমেরিকার জন হপকিন্স সেন্টার ফর লিভেবল ফিউচার একটি পরীক্ষা চালান আর্সেনিক খাবার খাওয়া মুরগির মাংসের বিষক্রিয়ার ওপর। তাদের পরীক্ষার ফলাফল বলছে, মুরগির খাবারের রক্সারজোন তাদের শরীরে ঢুকেই আরও মারাত্মক অজৈব আর্সেনিক যৌগে বদলে যায়। যা কিনা কার্সিনোজেন অর্থাৎ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। এবং ঐ মুরগিটি যখন কাটা হয়, এবং রান্না করা হয়, তাতে ঐ অজৈব আর্সেনিকের মাত্রা আমাদের দেহের বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়।
এখানে আরো একটি কথা বলা প্রয়োজন। তা হল, মাংস যেভাবে রান্না করা হয়, তাও অনেকক্ষেত্রে তাদের বিষক্রিয়ার জন্য দায়ী। মাংস আগুনে পোড়ালে বা উচ্চতাপে রান্না করলে তাতে HCAবা হেটেরোসাইক্লিক অ্যামিন নামে একটি রাসায়নিক তৈরি হয়। এটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী। একটি রোস্ট করা লেগপিস ৬০ টি সিগারেটের সমান ক্ষতিকর।
এখন আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ব্রয়লার মুরগি কতটা বিষাক্ত। এবং সেটা ঐ মুরগির দোষে নয়। বরং দোষী তাদের পালনপদ্ধতি আর খাবার। যদি একইভাবে দেশি মুরগি পালন করা হয়, এবং ঐ খাবার দেশি মুরগিকেও খাওয়ানো হয়, তবে তারাও একইরকম ক্ষতিকারক হয়ে উঠবে।
অতএব, যদি নিজের এবং নিজের পরিবার পরিজনেরর সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবন আপনার কাম্য হয়ে থাকে, তবে ব্রয়লার মুরগি খাওয়া তো ছাড়তেই হবে, সঙ্গে ডিম বা অন্য মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও আপনাকে যথাসম্ভব সতর্ক হতে হবে। এবং এইভাবে যদি দেশের একটা বড় অংশের মানুষনিজেদের দুরে সরিয়ে নিতে থাকেন, তবে হয়তো একদিন চাহিদার অভাবেই এই বিষখাদ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্রঃ টাইমস অফ ইন্ডিয়া


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন